http://protoster.blogspot.com/

Health লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Health লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭

চালু হলো স্বাস্থ্যসেবার নতুন অ্যাপ





ঘরে বসে চিকিৎসকদের পরামর্শ, সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ, স্বাস্থ্যপরীক্ষার প্রতিবেদনসহ নানা সুবিধা নিয়ে চালু হয়েছে ‘বিডিইএমআর’ নামের একটি অ্যাপ্লিকেশন। ১ মার্চ বুধবার ঢাকা ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
‘বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড’ বা সংক্ষেপে ‘বিডিইএমআর’ অ্যাপটির নির্মাতা চিকিৎসক অসিত বর্ধন।
অ্যাপ নির্মাতার ভাষ্য, অ্যাপটির মাধ্যমে সহজে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাসংক্রান্ত ভোগান্তি কমবে। গুগল প্লেস্টোর থেকে অ্যাপটি বিনা মূল্যে ডাউনলোড করা যাবে। অ্যাপে রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এতে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যায়। এ ছাড়া রক্তচাপ, রক্তে চিনিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ফল এতে সংরক্ষণ করা যায়।

রক্তদান সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-





রক্তদানের যোগ্যতাঃ------------------------------------------

১.ওজন পুরুষ ৪৭কেজি মহিলা ৪৫ কেজি।
২.বয়সঃ ১৮থেকে ৫৭ বছর বয়সের যে কোন সুস্থ্য নর-নারী ।
৩.রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৭৫% বা তার উর্ধ্বে থাকলে।
৪.সম্প্রতি (৬-মাস) কোন দুর্ঘটনা বা বড়
ধরনের অপারেশন না হলে ।
৫.রক্তবাহিত জটিল রোগ যেমনঃ ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, গনোরিয়া হেপাটাইটিস, এইডস, চর্মরোগ,হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, টাইফয়েড এবং বাতজ্বর না থাকলে ।
৬.কোন বিশেষ ধরনের ঔষধ ব্যবহার না করলে ।
৭. তিন মাসের মধ্যে যিনি কোথাও রক্ত দেননি ।
৮.মহিলাদের মধ্যে যারা গর্ভবতী নন এবং যাদের মেয়েলি প্রবলেম চলছে না।



রক্তদানের উপকারিতাঃ----------------------------------------------
১.প্রতি ৪মাস অন্তর রক্ত দিলে দেহে নতুন BLOOD CELL সৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পায় ।
২.নিয়মিত রক্তদানের মাধ্যমে হৃদরোগের
ঝুঁকি কমে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
৩. রক্তদানে শরীরের কোন হ্মতি হয়
না বরং রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা অনেকগুণ বেড়ে যায় । ।
৪.স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে আপনি জানতে পারেন আপনার শরীরে রক্তবাহিত মারাত্মক রোগ যেমনঃ হেপাটাইটিস-বি, এইডস,সিফিলিস ইত্যাদির জীবাণু বহন করছে কিনা।
৫. স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানসিক প্রশান্তি আসে। রক্তদানের মাধ্যমে একটি জীবন বাঁচানো পৃথিবীর সর্বোচ্চ সেবার অন্তর্ভূক্ত ।
৬..রক্তদানে ধর্মীয় বিধিনিষেধ নাই ।
স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে আপনি হয়ত কোন অর্থ পাবেন না তবে একটা জিনিস অবশ্যই পাবেন তা হল একজন মুমূর্ষু রোগীর দোয়া যা কোটি টাকার বিনিময়েও
পাওয়া সম্ভব নয় ।
৭. রক্তদানের মাধ্যমে গড়ে উঠবে আত্নার বাঁধন ।

ভুলে যাচ্ছেন সব? যা যা করবেন..


কারও সঙ্গে কথা শেষ করে সেলফোন ঘাঁটছিলেন, কল হিস্টোরিতে দেখলেন একটি নম্বর, রিসিভড কল, দু’চার মিনিট কথাও বলা হয়েছে। হ্যান্ডসেটে নম্বরটি সেভ নেই বলে মনে করতে পারছিলেন না ঠিক কার সঙ্গে কথা বলেছেন!

অফিসে আছেন। কারও ডেস্কে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করে উঠে দাঁড়ালেন। পাশ থেকে অন্য কেউ একজন ডেকে কথা বলতেই ভুলে গেলেন আসলে কী জন্য চেয়ার থেকে উঠলেন!

নড়েচড়ে বসুন, আপনার স্মৃতিভ্রম হচ্ছে। মস্তিষ্কের কোষে চাপ পড়েছে বলে এই জটিলতা। তাহলে কী করে চাঙ্গা রাখবেন মস্তিষ্কের কোষকে? জেনে নিন পাঁচটি টিপস।


ব্যায়াম করুন, স্বল্প সময়ের জন্য হলেও
শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম অথবা দৌড়াদৌড়ি করুন নিয়মিত। স্বল্প সময়ের জন্য হলেও। ব্যায়াম করলে কেবল শরীর চাঙ্গা থাকে না, মস্তিষ্কও হয়ে ওঠে চনমনে। ব্যায়ামটা সকাল সকাল করা গেলে খুব ভালো, সারাদিন ফুরফুরে মেজাজে কাজ করতে পারবেন। এছাড়া, দেওয়ালে বল ছুঁড়ে ক্যাচ ধরার প্র্যাকটিস করুন মনোযোগ বাড়াতে।


ঘুমান প্রয়োজনমতো
ঘুমে খানিক ব্যাঘাত হলে তার ছাপ সারাদিন থাকে। এভাবে নিয়মিত ঘুমে ব্যাঘাত হলে মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়ে, যা আপনাকে ঠেলে দেবে স্মৃতিভ্রমে। সুতরাং রোজ ভালো ঘুমের ওপর জোর দিন। একজন সুস্থ মানুষের জন্য দিনে অন্তত ৬ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন, কারও কারও ক্ষেত্রে এর বেশিও লাগতে পারে, সেটা ব্যক্তিই অনুভব করবেন। আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে টিভি দেখা, স্মার্টফোন, ল্যাপট, ট্যাব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বন্ধ করুন। এসব ডিভাইস চোখের আরাম কেড়ে নেয়।


মগজ শাণিত করতে খেলুন শব্দছক-সুডোকু
কোনো কিছু ঘষতে ঘষতেই ধার হয়, মস্তিষ্ক ধার দিতে বা শাণিত করতেও দরকার ধার দেওয়া। পত্রিকা বা অনলাইনে নিয়মিত শব্দছক বা সুডোকু খেলে ধার দেওয়া যেতে পারে মগজে। এছাড়া নিয়মিত সৃজনশীল খেলা খেলতে হবে। লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা-আড্ডাবাজি করতে হবে।


ধকল কমান
সারাদিন কাজে ডুবে থাকেন। দিনশেষে বাসায় ফেরার সময়ও সঙ্গে নিয়ে আসেন কাজ। এই ধকলটা আপনার মস্তিষ্ক এখন নিতে পারছে না। দিনের কাজ দিনে শেষ করে আসা দক্ষ ব্যক্তির পরিচয়- মনিষী এপিজে আবদুল কালামের এই বাণী মাথায় রেখে আপনিও দিনের কাজ দিনে শেষ করুন, রাতে ‍বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্য বা রুমমেটদের সঙ্গে খুনসুটি করুন-আড্ডাবাজি করুন, মস্তিষ্ককে একটু ‘বিশ্রাম’ দিন। আর কোনোভাবেই মানসিকভাবে হতাশায় তলিয়ে যাবেন না, লড়াইয়ের মানসিকতায় এগিয়ে যান।


স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান নিয়মিত
প্রথমেই খাবার তালিকা থেকে বাদ দিন চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার। খাবার তালিকায় যোগ করুন শাক-সবজি, ফলমূল। এর পাশাপাশি ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ (সালমন, টুনা ফিস, চিয়া সিডস, আখরোট, সয়াবিন ও পালং শাক পাংগাস, পাবদা, রুই, ইলিশ) খাবারেও নজর দিন। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট (দুধ, দই, ছানা, পাকা কলা, পেঁপে, পেয়ারা, আম)  খাবারও খেতে হবে ভরপুর। গ্রিন-টিও দারুণ উপকারী। খাবারে তেল-মশলা কমিয়ে অলিভ অয়েল ব্যবহার বাড়ান। আর অবশ্যই সকাল-দুপুর-রাতের খাবারটা নিয়মের মধ্যে আনুন। বেলা করে ঘুম থেকে উঠে সকাল-দুপুর একসঙ্গে মিলিয়ে খাওয়া চলবে না। চলবে না রাতে বাসায় ফিরে একেবারে ১-২টায় খাবার খাওয়াও।

সর্বোপরি যতটা সম্ভব হাসিখুশির মধ্যে থাকুন, নির্ভার রাখুন মস্তিষ্ককে। সুন্দর জীবন আরও সুন্দর হয়ে উঠুক।

বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭

দিনে তিন নয়, ১০ বার খান



দীর্ঘজীবনের জন্য মানুষ অনেক কিছুই করে। এ জন্য খাওয়াদাওয়া এবং জীবনযাপনে সচেতন থাকে অনেকে। মানুষ কীভাবে দীর্ঘজীবী হতে পারে কিংবা কীভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে, সে বিষয়ে গবেষণারও শেষ নেই। তেমনি এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন নানা ধরনের ৮০০ গ্রাম ফল ও শাকসবজি খেলে বাড়ে দীর্ঘজীবী হওয়ার সম্ভাবনা।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, লন্ডনের ইমপিরিয়াল কলেজের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দিনে নানা ধরনের ৮০০ গ্রাম ফল, শাকসবজি খেলে দীর্ঘজীবী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে এই সমপরিমাণ ফল, শাকসবজি একেবারে না খেয়ে দিনে কয়েক দফা অর্থাৎ ১০ বারে খেতে হবে। সে জন্য বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি খেতে হবে একবারে মাত্র ৮০ গ্রাম করে। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এভাবে খাদ্যাভ্যাসে মানুষ অভ্যস্ত হলে বছরে ৭৮ লাখ অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব।
৯৫টি আলাদা গবেষণার তথ্য-উপাত্ত একত্রিত করে এ গবেষণায় ওই উপসংহারে পৌঁছেছেন গবেষকেরা। গবেষণায় সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ মানুষের খাদ্যাভ্যাসের চিত্র উঠে এসেছে। 

ইমপিরিয়াল কলেজের গবেষকেরা বলছেন, এভাবে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে বিশ্বের প্রতিবছর প্রায় ৮০ লাখ মানুষ অপরিণত বয়সে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাবে। তাঁরা বলছেন, এমন কিছু ফল ও সবজি আছে, যেগুলো খেলে ক্যানসার ও হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। সবুজ শাকসবজি, হলুদ রঙের সবজি ও ফুলকপিজাতীয় সবজি খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁরা আরও বলছেন, হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর জন্য আপেল, নাশপাতি, লেবুজাতীয় ফল, সালাদ, সবুজ শাকসবজি (যেমন লেটুসপাতা) ও বাঁধাকপি-জাতীয় সবজি বেশ কার্যকর হতে পারে।
তবে প্রতিদিন ৮০০ গ্রামের বেশি ফল ও সবজি খেলে স্বাস্থ্যের জন্য আরও বেশি উপকার হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন গবেষকেরা।
এ গবেষণার ফলাফল ইপিডেমিওলোজি জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ৮০ গ্রাম ওজনের ফল বা সবজি বা এর সমপরিমাণ ওজনের একটি কলা, নাশপাতি, শাক বা ডাল হলেও এ ক্ষেত্রে চলবে।
দিনে কোনো ফল বা সবজি না খেলে কী হতে পারে, তা-ও দেখিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, দিনে ২০০ গ্রাম ফল খেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে ১৩ শতাংশ এবং ৮০০ গ্রামে কমে ২৮ শতাংশ। ২০০ গ্রাম ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে ৪ শতাংশ এবং ৮০ গ্রামে কমে ১৩ শতাংশ। ২০০ গ্রাম ফল খাওয়ার ফলে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমে ১৫ শতাংশ এবং ৮০০ গ্রামে ঝুঁকি কমায় ৩১ শতাংশ।

রাতে ঘুমানোর আগে ১০ মিনিট



সারা দিন ধরে টইটই করে ঘোরা বা কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততা। হয়তোবা এর কোনোটাই আপনার দিনলিপির সঙ্গে মেলে না। সারা দিন বাড়ির কাজে বাড়ির মধ্যেই থাকতে হয়। সারা দিনের কাজের তালিকা যেটাই হোক না কেন, রাতে ঘুমানোর আগে নিয়ম করে কিছু বিষয় মেনে চলা ভালো। এতে ঘুমটাও ভালো হবে, সতেজ মনে শুরু করতে পারবেন দিনটা। চেষ্টা করুন নিজের জন্য ঘুমের আগে ১০ মিনিট সময় ব্যয় করার।
মুখে মেকআপ থাকুক বা না-ই থাকুক, রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক। এমনটাই মনে করেন রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। এরপর ত্বক অনুযায়ী ক্রিম লাগান। তবে ত্বক তৈলাক্ত হলে ক্রিম লাগানোর দরকার নেই। হাত-পা ধোয়ার সময় সম্ভব হলে নরম ব্রাশ দিয়ে ত্বক ঘষে নিন। ময়লা উঠে আসবে ভেতর থেকে। মরা চামড়াও উঠে যাবে। হাতে-পায়ে জলপাই তেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান। ত্বক নরম থাকবে। ঘুমানোর আগে পরিষ্কার ঘুমের কাপড় পরে নিন। দাঁত ব্রাশ করাও আবশ্যক। সম্ভব হলে গোসল করে নিন। এতে আপনার মস্তিষ্ক খবর পেয়ে যায়, আপনি ঘুমানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চুল আঁচড়ানোর সময় উল্টো করে মাথা নামিয়ে আঁচড়ান। এতে মাথার রক্ত সঞ্চালন ও ঘুম দুটোই ভালো হয়। খুব আঁটসাঁট করে চুল না বেঁধে হালকা করে বাঁধার পরামর্শ দিলেন আফরোজা পারভীন। চাইলে নরম কাপড় দিয়ে পেঁচিয়েও রাখতে পারেন। চুল খোলা রেখে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করুন।

পরের দিনের জন্য সবকিছু গুছিয়ে রাখুন। সকালের তাড়াহুড়ো অনেকখানি কমে যাবে। কাপড় ইস্তিরি করে রাখা। সম্ভব হলে নাশতা আগের রাতেই তৈরি করে ফেলা। ব্যাগ গুছিয়ে রাখার মতো টুকটাক কাজগুলো করে ফেলাই ভালো।
ঘুমানোর অন্তত ঘণ্টা খানেক আগে ডিজিটাল দুনিয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। বই পড়ুন, প্রিয়জনদের সঙ্গে গল্প করুন। রাগ করেও ঘুমানো উচিত নয়। মনের ওপর চাপ ঘুমের মধ্যেও শান্তি দেয় না।

ঘুম একদম না এলে মেডিটেশন অথবা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। 
ঘরের মধ্যে কড়া আলো বন্ধ করে দিন। টেবিল ল্যাম্প বা অল্প আলো জ্বেলে রাখতে পারেন।

দিনের মধ্যে ভালো ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবার চেষ্টা করুন। খিদে পেলে ভারী কিছু না খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। হালকা স্বাস্থ্যকার কিছু খেয়ে নিন।

সকালে নাশতা না করলে যে ক্ষতি




আপনি কি সকালে নাশতা করেন না? নাকি নাশতায় অনিয়ম করেন? যাঁরা সকালের নাশতা এড়িয়ে যান, তাঁদের নানা শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। বলা হয়, সকালের নাশতা দিনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। তাই এটি মোটেও এড়ানো উচিত নয়।
নাশতা না খেলে যে সমস্যা হয়, তা জেনে নিন:
ডায়াবেটিস: সকালের নাশতা এড়িয়ে গেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এ সমস্যা নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের ক্ষেত্রে সকালের নাশতা এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় টাইপ টু ডায়াবেটিস তৈরি হয়।
হৃদ্‌রোগ: যাঁরা সকালে নাশতা করেন, নিয়মিত নাশতা না করা ব্যক্তিদের চেয়ে তাঁদের হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কম থাকে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাশতা না খাওয়ার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ইনসুলিন প্রতিরোধ ও রক্তের চিনির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি যুক্ত রয়েছে।
মাইগ্রেন: সকালের নাশতা না করলে মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। রক্তে গ্লুকোজ কমে যায়, রক্তচাপ বাড়ে। এতে মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দেয়।
চুল পড়ে: মাথার চুলের ফলিকল বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সকালের নাশতা। প্রোটিনবিহীন খাবার খেলে কেরাটিনের স্তরে প্রভাব পড়ে, যা চুল পড়ার হার বাড়ায়। তাই সকালে প্রোটিনযুক্ত নাশতা করা উচিত। তথ্যসূত্র: জিনিউজ।

দাঁতের যত্নে সাত পরামর্শ



সুন্দর দাঁত কার না ভালো লাগে? তবে দাঁতকে সুন্দর রাখতে হলে প্রয়োজন দাঁতের যত্ন। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশিত হয়েছে দাঁতের যত্ন নিয়ে কিছু পরামর্শ। 
১. এসিডিক ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। এ ধরনের খাবারগুলো দাঁতের ক্ষয় করে। 

২. প্রচুর পানি পান করে মুখকে আর্দ্র রাখুন। শুষ্ক মুখ দাঁতের ক্ষয় বাড়িয়ে দেয়।

৩. দাঁত ব্রাশের জন্য সঠিক টুথব্রাশ ব্যবহার করা উচিত। তাই নরম টুথব্রাশ ব্যবহার করুন। শক্ত টুথব্রাশ ব্যবহারে দাঁতের ক্ষতি হয়।

৪. ফ্লোরাইড বেজ মাউথওয়াশ দিয়ে নিয়মিত মুখ কুলি করুন।

৫. দাঁত ভালো রাখার জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি জাতীয় খাবার খান।

৬. দাঁতে সমস্যা থাকলে তো চিকিৎসকের কাছে যাবেনই, তবে নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকার জন্য বছরে অন্তত দুবার দন্ত্যচিকিৎসকের কাছে যান। 

৭. প্রতিদিন মাড়ি ম্যাসাজ করুন। মাড়িতে ম্যাসাজ করা রক্ত সঞ্চালনকে বাড়িয়ে দেয়। 

রক্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী জটিলতা হতে পারে?




হাত-পা অথবা চোখ ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব হলেও রক্ত ছাড়া বাঁচার কথা কল্পনাও করা যায় না। মানবদেহে রক্ত তাই অপরিহার্য। জীবন রক্ষার অন্যতম উপায় রক্ত পরিসঞ্চালন কখনো কখনো তৈরি করতে পারে জটিলতা।
  • রক্তবাহিত রোগের সংক্রমণ এখনো একটি প্রধান সমস্যা। হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, এইডসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী জীবাণু সহজেই রক্তের মাধ্যমে রক্তগ্রহীতার দেহে প্রবেশ করতে পারে। এই পরিস্থিতির মূল কারণ রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে রক্তটি জীবাণুমুক্ত কি না, তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করা। অনুমোদনহীন এসব রক্ত বিক্রি করা হয়। আর তা আসে মূলত নেশাসক্ত পেশাদার রক্তদানকারীদের থেকে। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ রক্ত বা ভেজাল রক্তও এসব ব্লাড ব্যাংক থেকেই আসে।
  • ভুলক্রমে এক গ্রুপের রক্ত অন্য গ্রুপের রোগীদের দিলে রক্ত হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। এ ধরনের ঘটনা কম হলেও একেবারেই হয় না, তা নয়। এসব ক্ষেত্রে রক্ত সংগ্রহকারী ও পরীক্ষাকারী ব্লাডব্যাংক, চিকিৎসক অথবা নার্স যে কারো ভুল বা অসতর্কতা দায়ী। রোগী সাধারণত বুকে-পিঠে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের অভিযোগ করে থাকে। চিকিৎসক দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরবর্তী জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়। এ ছাড়া যেকোনো পরিসঞ্চালনেই কাঁপুনি ও জ্বর আসা এবং অ্যালার্জি জাতীয় ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে।
  • যাদের কিছুদিন পরপর রক্ত নিতে হয়, তাদের দেহে লৌহের আধিক্যসহ অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।
  • অনেক সময় অধিক রক্ত দ্রুত প্রবেশ করলে বৃদ্ধ অথবা হৃদরোগীর হার্ট ফেইলিউর জাতীয় সমস্যা হতে পারে।
অবশ্য রোগী বা তাঁর আত্মীয়স্বজন সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েন, রক্ত পরিসঞ্চালনের আগেই যখন দেওয়ার জন্য রক্ত খুঁজতে থাকেন। পাড়ায় পাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ ব্লাড গড়ে উঠলেও নিরাপদ রক্ত এখনো দুর্লভ। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে রক্ত প্রয়োজন হলে, তা হয়ে ওঠে সোনার হরিণ। এ ছাড়া যাদের ঘন ঘন রক্ত নিতে হয়, তাদের বেশিরভাগ সময় যায় রক্তের খোঁজে। দুর্লভ দলের রক্ত হলে তো কথাই নেই।
আমাদের কী করা উচিত
রক্ত যে কারোরই যেকোনো সময় প্রয়োজন হতে পারে—এ কথা মনে রেখে আমরা যদি এখনই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি, তবে রক্ত পরিসঞ্চালনের সমস্যা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। আমাদের যেসব উদ্যোগ নিতে হবে তা হলো :
  • নিজের, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবদের রক্তের গ্রুপ জেনে রাখা।
  • নিকটস্থ ব্লাড ব্যাংকের ঠিকানা ও ফোন নম্বর জেনে রাখা।
  • শুধু নিবন্ধনকৃত ব্লাড ব্যাংকে রক্তদান ও গ্রহণ করা।
  • পেশাদার রক্তদাতার রক্ত না কেনা।
  • নিজে নিয়মিত রক্তদান করা এবং সকলকে উদ্বুদ্ধ করা।
  • রক্তবাহিত রোগে সংক্রমিত হলে রক্তদান না করা।  

শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

জিহ্বা পুড়লে যা করবেন



আড্ডায় কিংবা তাড়াহুড়োয় গরম চা অথবা কফির কাপে চুমুক দিতেই চমকে উঠলেন। বুঝলেন জিহ্বাটা আবারও পুড়ল। এমন ঘটনা প্রায় সবারই ঘটে। এতে জিহ্বা জ্বালাপোড়া করে। আর সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয়, এটি সহজে কমতেও চায় না। এ থেকে অনেক সময় মুখে শুকনোভাব, পানিশূন্যতা ইত্যাদি তৈরি হয়। সমস্যার সমাধান করা না হলে একপর্যায়ে মুখে দুর্গন্ধ বা দাঁতক্ষয়ের সমস্যাও দেখা দেয়।
তবে, পোড়া কম হলে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন এই অস্বস্তি দূর করার জন্য।
১. জিহ্বা পুড়ে গেলে মুখ দিয়ে শ্বাস নিন। এতে মুখে ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকবে। আস্তে আস্তে স্বস্তি আসবে।
২. জিহ্বার প্রদাহ কমাতে মধু খেতে পারেন। মধুর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহরোধী উপাদান। এতে জ্বালাপোড়াভাব কমবে। পাশাপাশি মধু পরবর্তী সময়ে মুখে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিও প্রতিহত করবে।
৩. ঠান্ডাজাতীয় কিছু খেতে পারেন। যেমন : আইসক্রিম বা আইসকিউব খেতে পারেন অথবা ঠান্ডা পানি বা জুস পান করতে পারেন। এতে কিছুটা স্বস্তি আসবে।
৪. জিহ্বা পুড়ে যাওয়ার সমস্যা সমাধানে দ্রুত মুক্তি পেতে দই খাওয়া যেতে পারে। দই মুখের মধ্যে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড রাখুন। দিনে কয়েকবার দই খেলে দ্রুতই ফল পাবেন।
৫. অ্যালোভেরা জেল ব্যথা কমায় এবং জিহ্বার ভেতরে একটি ঠাণ্ডাভাব আনে। এটি মুখের মধ্যে ২৫ মিনিট দিয়ে রাখুন। দিনে কয়েকবার এটি করতে পারলে অনেকটা স্বস্তি পাবেন।
৬. পোড়া জিহ্বার প্রদাহ কমাতে চিনি বেশ উপকারী। এক চামচ চিনি মুখের মধ্যে দিন। চিনি গলে যাওয়া পর্যন্ত মুখের মধ্যেই রাখুন। এতে আস্তে আস্তে প্রদাহ কমে যাবে।

ঠোঁট নিয়ে আজানা যত তথ্য



ঠোঁট, শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা দিয়ে আমরা কথা বলি, খাবার খাই, এমনকি মাঝে মাঝে অনেক দুষ্টুমিও করে থাকি। কিন্তু এগুলি ছাড়াও আমাদের লিপস বা ঠোঁটের এমন কিছু গুণ আছে যা বাকি প্রাণীদের ঠোঁটে নেই। তাহলে দেরি কিসের! জেনে নিন ঠোঁট নিয়ে নানান আজানা কথা।
১) আমাদের শরীরে সবথেকে স্পর্শকাতর অঙ্গ হল ঠোঁট। একাধিক রিপোর্ট অনুসারে, শরীরের এই অংশে কম করে লক্ষাধিক নার্ভ আছে। কিন্তু এই নার্ভগুলিকে রক্ষা করার জন্য় নেই কোনও মেমব্রেন। তাহলে একবার ভাবুন, শরীরের সবথেকে নরম জায়গা, কিন্তু তাকে রক্ষা করার কেউ নেই। কী দুঃখের বিষয় না!
২) শরীরের সব অঙ্গ ঘামে, কিন্তু ঠোঁট কখনও ঘামে না । কেন জানেন? কারণ শরীরের এই অংশে ঘামের গ্রন্থী নেই। তাই তো ঠোঁট খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।
৩) একজনের ফিঙ্গার প্রিন্টের সঙ্গে যেমন আরেক জনের ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলে না, তেমনি আমাদের সবার ঠোঁট কিন্তু আলাদা আলাদা হয়। তাই যদি ভাবেন আপনার ঠোঁটের সঙ্গে আপনার কোনও বন্ধুর ঠোঁটের খুব মিল আছে, তাহলে ভুল ভাবছেন।
৪) ঠোঁট হল শরীরের একমাত্র অঙ্গ, যার বাইরেটা যেমন, ভেতরটাও তেমন।
৫) আপনাদের কি জানা আছে, বয়স যত বাড়তে থাকে, তত আমাদের ঠোঁট মোটা হতে শুরু করে। আসলে বয়স বাড়তে থাকলে আমাদের শরীরে কোলেজেনের উৎপাদন কমে যেতে শুরু করে। ফলে ঠোঁট তার সৌন্দর্য হারাতে শুরু করে।
৬) আপনি কাউকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে কত নম্বর পেতে পারেন, তা কিন্তু আপনার ঠোঁট দেখে বলে দেওয়া সম্ভব। একাধিক স্টাডিতে একথা প্রমাণিত হয়েছে যে কোনও মেয়ের ঠোঁট দেখে বুঝে যাওয়া সম্ভব সে কাউকে ভালোবাসতে কতটা পারদর্শী। শুনতে আবাক লাগলেও একথা কিন্তু ১০০ শাতংশ ঠিক।
৭) শরীরের বাকি অঙ্গের মতো ঠোঁটও কিন্তু পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। একে “বেলস পালসি” বলা হয়। প্রসঙ্গত, ফেসিয়াল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্থ হলে এমন ধরনের পেরালাইসিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বসে পানি পানের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি



আমরা জানি শরীরের মোট ওজনের শতকরা ৬০ ভাগ হচ্ছে পানি। দেহের কোষ, কলা বা টিস্যু, বিভিন্ন অঙ্গ তথা মস্তিষ্ক, কিডনী, পাকস্থলী, ত্বক, চুল ইত্যাদির যথাযথ কার্যকারীতার জন্য পানি অত্যাবশ্যকীয়। শরীরের সকল প্রকার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা প্রয়োজন। কিন্তু আপনি জানেন কী পানি দাঁড়িয়ে না বসে পান করতে হয়? যদি বসে পান করতে হয় তবে কেন? আবার দাঁড়িয়ে পান করলে সমস্যা কী?
সাধারণত আমরা জানি পানি বসে পান করা উচিৎ। কিন্তু এই কথার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ক’জন জানি? চলুন জানা যাক:
পানির স্বাস্থ্যগত উপকারীতা পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই পানি পানের নিয়মাবলীর দিকে গভীর নজর রাখতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে, দাঁড়িয়ে পানি পান না করে অবশ্যই বসে থেকে পানি পান করা উচিৎ।
দাঁড়িয়ে পানি পান করা হলে তা দ্রুত কোলন বা মলাশয়ে চলে যায়। ফলে পানির প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপকরণ শরীরে শোষিত হয় না।
দাঁড়িয়ে পান করলে আরও অনেক স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি হচ্ছে হজমজনিত সমস্যা, পেট ব্যথা, কিডনী নষ্ট হয়ে যাওয়া, স্নায়ু উত্তেজনা ইত্যাদি। এছাড়াও দাঁড়িয়ে পানি পান করলে অস্থিসন্ধিতে ফ্লুইড জমে গিয়ে আর্থ্রাইটিসের সৃষ্টি করতে পারে।
এসব বিষয় চিন্তা করেই আপনাকে বসে বসেই পানি পান করতে হবে। বসে পান করলে অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। আরেকটি কথা, বসে বসে পানি পান করার পাশাপাশি অবশ্যই ছোট ছোট চুমুক বা অল্প অল্প করে পান করবেন। যদি দ্রুত পানি পান করতে থাকেন তবে শরীরের ক্ষতি করছেন।
গরমকাল এসেই গেল। এই গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর পানি পান করা আবশ্যক। সারাদিন কর্মচঞ্চল থাকার জন্য জাপানিরা সকালবেলা খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করে থাকে। পানি পানের ৩০ মিনিট পর নাস্তা করে। সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত থাকতে যথাযথ নিয়ম মেনে পানি পানের বিকল্প নেই। তাহলে আজ থেকেই শত ব্যস্ততার মাঝেও বসে থেকে পানি পানের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তো?

শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

আমরা সাধারনত নতুন পোশাক না ধুয়েই পরি, জানেন কি এটি কতটুকু নিরাপদ?


নতুন পোশাকের একটা আলাদা চাকচিক্য থাকে। পোশাক ধোয়ার পর এর নতুন ভাবটি চলে যায় বলে আমরা অনেকেই না ধুয়ে কিছুদিন ব্যবহার করি পোশাকটি। কিন্তু এই কাজটি কি আসলে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ?
লিন্ডসে বর্ডন এমডি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের একজন ডার্মাটলজিস্ট সেলফকে জানান তিনি দোকান থেকে বা অনলাইন থেকে কেনা সব পোশাক ধুয়ে তারপর ব্যবহার করেন। পোশাকে অন্য মানুষের শরীর থেকে আসা জীবাণু নিয়ে তার বেশী মাথাব্যথা নেই। তিনি পোশাক ধুয়ে পরেন কারণ কাপড়টিতে থাকতে পারে বিভিন্ন ধরণের ডাই ও ক্যামিক্যাল। এগুলো স্পর্শকাতর ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
পোশাক যখন আমদানি বা রপ্তানি করা হয় তখন এতে কিছু প্রিজারভেটিভ দেওয়া হতে পারে, যেন এতে ছত্রাক না জন্মে। এগুলোতে থাকতে পারে ফর্মালডিহাইডের মতো রাসায়নিক। ফরমালডিহাইড থেকে হতে পারে ত্বকের র‍্যাশ। কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস এবং ইরিট্যান্ট কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস দুইটিই হতে পারে এই রাসায়নিকের কারণে। তবে পোশাক পরার আগে ধুয়ে নিলে এই সমস্যা হয় না। ধুয়ে নেওয়ার ফলে আরও কিছু ক্ষতিকর পদার্থ দূর হয়, যেমন ডাই। ব্লু ডাই কিছু মানুষের ত্বকে অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। দুইবার ধুয়ে নিলে অতিরিক্ত ব্লু ডাই দূর হয় এবং ত্বকের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা কমে।
এ তো গেল রাসায়নিকের কথা। কিন্তু পোশাক থেকে আমাদের শরীরে কোনো জীবাণু আসার সম্ভাবনা আছে কি? উইল কার্বি এমডি, ক্যালিফোর্নিয়ার হার্মোসা বীচের একজন ডার্মাটোলজিস্ট জানান এমনটা হওয়া অসম্ভব না হলেও খুবই কম সম্ভাবনা আছে এর। কারণ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ফাঙ্গাসের রোগ সৃষ্টিকারী কোষ কাপড়ের মাধ্যমে সাধারণত ছড়ায় না।
ডঃ বর্ডন জানান পোশাকের মাধ্যমে স্ক্যাবিস ছড়াতে পারে, কিন্তু এর ঝুঁকিও অনেক কম। আপনি যদি পোশাকের দোকানে অন্তর্বাস ট্রায়াল দেন তাহলে এটা অন্য কোনো কাপড়ের উপর দিয়ে পরা এবং কেনার পর ভালো করে ধুয়ে নিয়ে ব্যবহার করাটা আসলেই জরুরী। কারণ অ্যানাল এবং ভ্যাজাইনাল ত্বকের মাধ্যমে জীবাণু ছড়ানোর মাত্রা বেশী।   
সুতরাং নতুন পোশাক ধুয়ে ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের সমস্যা হবার সম্ভাবনা কমে যায়, বিশেষ করে আপনার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয়। তবে নতুন কাপড় থেকে জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

দাঁতে কালো দাগ?


দাঁতের ফাঁকে বা ওপরে কালো কালো দাগ সুন্দর চেহারার বারোটা বাজিয়ে দেয় অনেক সময়। অনেকে এই কালো দাগের জন্য প্রাণভরে হাসতেও ভয় পান। দাঁতের ফাঁকে কালো দাগ নানা কারণে হতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো দন্তমল। খাওয়ার পর বিভিন্ন খাদ্যকণা দাঁতের ফাঁকে বা মাড়িতে আটকে থাকে। দীর্ঘদিন আটকে থাকার কারণে এর ওপর শক্ত আবরণ পড়ে, যা দন্তমলে পরিণত হয়। এ ছাড়া ধূমপান, জর্দা, পান ও তামাক ব্যবহারে দাঁতে দাগ পড়ে।
দন্তমল কেবল দেখতে খারাপ নয়, এর ভেতরে জন্ম নেয় ও বেড়ে ওঠে অসংখ্য জীবাণু। অনেক সময় এই জীবাণু রক্তে মিশে গিয়ে নানা বিপত্তির সৃষ্টি করতে পারে, এমনিক গর্ভস্থ শিশুর ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে। এ ছাড়া মুখে দুর্গন্ধ এবং বারবার মাড়ির প্রদাহের জন্যও এটি দায়ী।
দাঁত সুন্দর ও সাদা রাখতে কিছু বিষয়ে সচেতনতা দরকার।
 দিনে অন্তত দুবার ভালো করে বেশ কিছুক্ষণ ধরে দাঁত ব্রাশ করুন।
 ব্রাশ করার আগে ডেন্টাল ফ্লস বা সুতা দিয়ে দাঁতের ফাঁকগুলো পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন।
 জীবাণু দূর করে এমন মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ কুলকুচি করুন রাতে।
 রোজ কোনো শক্ত ফল যেমন পেয়ারা, আমড়া, আপেল ইত্যাদি দাঁত দিয়ে কামড়ে খান। তাজা শাক-সবজি যেমন গাজর, শসা, টমেটো, লেবু ইত্যাদিও দাঁত সুরক্ষার জন্য ভালো।
 বছরে অন্তত দুবার দন্তমল দূর করার জন্য ডেন্টাল স্কেলিং করা উচিত।
অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরী
দন্ত বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল

চোখে অঞ্জনি?


চোখের পাপড়ি যেখান থেকে বের হয়, সেই রেখা ঘেঁষে যে লাল ছোট্ট দানা বা পুঁটুলি মাঝে মাঝে তৈরি হয়, তাকে চলতি কথায় অঞ্জনি বলে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে স্টাই বা হরডিওলাম। চোখের পানি তৈরি করে এমন একটি গ্রন্থি হলো মেবোমিয়ান গ্রন্থি। এই গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গিয়ে ভেতরে ময়লা জমা হয় এবং প্রদাহ বা সংক্রমণ থেকে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। কখনো অন্যান্য গ্রন্থিও আক্রান্ত হতে পারে। এই দানাটা লাল হয়ে ফুলে যায় ও ব্যথা করে। অঞ্জনির সঙ্গে চোখের পাপড়ির প্রদাহ থাকতে পারে।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অঞ্জনি এক সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায় ও ভেতরের ময়লা বের হয়ে আসে। চিকিৎসা খুবই সাধারণ। এক টুকরো তুলোর বল বা কাপড়ের বল গরম পানিতে ভিজিয়ে দিনে অন্তত চারবার সেঁক দিতে হবে। কখনো প্রয়োজন হলে অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগানো যেতে পারে। বরিক পাউডারের সেঁক বেশ জনপ্রিয়, এটি অনেক সময় জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। অঞ্জনি অনেকের বারবার হয়, সে ক্ষেত্রে গ্রন্থির মুখে কোনো সমস্যা বা দীর্ঘদিনের পাপড়ির প্রদাহ, পাপড়িতে খুশকি ইত্যাদি আছে কি না দেখে নিতে হবে।
আমেরিকান ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান

সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশের ৯ পরামর্শ



আমাদের দিন শুরু ও শেষ হয় দাঁত ব্রাশ করা দিয়ে। অথচ অনেকেই হয়তো জানেন না দাঁত ব্রাশ করার সঠিক নিয়মকানুন; বিশেষ করে আপনি নিজেই যদি না জেনে থাকেন, তবে বাড়ির শিশুটিকে শেখাতেও পারবেন না। আর সঠিক নিয়মে ব্রাশ না করলে লেগে থাকবে দাঁত ও মুখের নানা সমস্যা। তাই জেনে নিন কীভাবে দাঁত ব্রাশ করা উচিত।
১: প্রথম কথা হচ্ছে টুথব্রাশ বাছাই করা। ভালো মানের টুথব্রাশ ব্যবহার করুন, যার শলাকাগুলো বেশি শক্ত বা বেশি নরম নয়। ছোটদের জন্য ছোট আকারের ব্রাশ দরকার, যা ওদের মুখে সহজে আঁটে।
২: পরিমিত মাত্রায় পেস্ট নিয়ে সকালে নাশতার পরে ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করুন। সম্ভব হলে ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। শিশুদের জন্য কম ঝাঁজাল টুথপেস্ট বেছে নিন।
৩: ব্রাশের শলাকাগুলো দাঁতের সঙ্গে ৪৫ ডিগ্রি কোনাকুনিভাবে ধরে ওপর পাটির দাঁত ওপর থেকে নিচে এবং নিচের পাটির দাঁত নিচ থেকে ওপরে ব্রাশ করুন।
৪: দাঁতের ভেতরে ও বাইরের অংশে সমান সময় নিয়ে ব্রাশ করুন। তাড়াহুড়া করবেন না। কমপক্ষে দুই মিনিট সময় নিয়ে ব্রাশ করুন।
৫: তিন মাস অন্তর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ব্রাশের শলাকাগুলো বাঁকা হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করতে হবে।
৬ : দিনে কম পক্ষে দুবার ব্রাশ করার পাশাপাশি অন্য সময় চকলেট কিংবা মিষ্টিজাতীয় আঠালো খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁত ব্রাশ করুন।
যা করা উচিত নয়
৭: অতিরিক্ত দীর্ঘ সময় নিয়ে দাঁত ব্রাশ করার প্রয়োজন নেই। বেশি জোরে ও দ্রুত ব্রাশ করা থেকেও বিরত থাকুন। ব্রাশের আঘাতে যেন মুখগহ্বরের ভেতের ঝিল্লির পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
৮:সামনে-পিছে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁতের গোড়া ক্ষয়ে যেতে পারে। ওপর-নিচে ব্রাশ করুন।
৯: টকজাতীয় খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ব্রাশ করা থেকে বিরত থাকুন।
কীভাবে দাঁত ব্রাশ করবেন?
১: ওপরের পাটি
মাড়ির নিচের অংশ পর্যন্ত পরিষ্কার করতে প্রতিটি দাঁতের আশপাশে ব্রাশ পৌঁছে দিন।
২: নিচের পাটি
মাড়ির নিচের অংশ পর্যন্ত পরিষ্কার করতে প্রতিটি দাঁতের আশপাশে ব্রাশ করুন।
৩: দাঁতের ওপরের অংশ
পেছনের দাঁতের ওপর-নিচ সবখানে ব্রাশ করুন।
৪: দাঁতের বাইরের অংশ
এক প্রান্ত থেকে শুরু করে অপর প্রান্ত পর্যন্ত অথবা ওপর থেকে নিচের দিকে ব্রাশ করুন।
ভালোভাবে দাঁত ব্রাশ করতে এক থেকে দুই মিনিট সময় নিন।
অল্প পরিমাণে ফ্লুরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করুন এবং একটি ছোট ও নরম ব্রাশ বেছে নিন।
শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সঠিক নিয়মে ব্রাশ করা শেখানো অভিভাবকের দায়িত্ব। দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্য শিশুদের মাছের কাঁটা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ডা. মোখলেছুর রহমান
ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৩

শরীরচর্চার জন্য একটু সময় বের করে নিতে হবে


নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে!


“ব্যায়াম করার সময় পাই না” স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আলোচনায় বসলে এই কথা শোনা যাবেই। ব্যস্ত জীবনে কথাটি পুরোপুরি মিথ্যাও নয়, তবে অভ্যাসে তৈরি করতে দরকার চর্চা।
আর পুরোটাই নির্ভর করে আপনার উপর। তাই ব্যস্ত জীবন থেকে শরীরচর্চার জন্য একটু সময় বের করে নিতে হবে, নিজের স্বার্থেই। উপায় জানাচ্ছে স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইট।
বাড়তি নড়াচড়া: প্রতিদিনের রুটিন যাই হোক না কেনো, আলসভাব ঝেড়ে ফেলে নড়াচড়ায় মধ্যে থাকার চেষ্টা করতে হবে। এতে শরীর এবং বিপাক প্রক্রিয়া কর্মঠ ও সচল থাকবে। মাঝে মধ্যে অফিসে ওঠার সময় লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেন।
হাঁটাহাঁটি: গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিক্সা, বাস যে যানবাহনেই অফিস যান না কেনো অফিসের গেইট থেকে একটু দূরে নেমে হেঁটে অফিস যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। প্রয়োজনে গেইট থেকে সবচাই দূরের পার্কিংয়ের স্থানে গাড়ি বা মোটরসাইকেল রাখতে হবে।
এক জায়গায় জগিং: অফিস কিংবা বাসায় একস্থানে দাঁড়িযে জগিং করতে পারেন। এসময় হালকা পড়াশোনা বা অফিসের ফাইলপত্রে চোখ বুলিয়েও নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে অফিসের কারও যেন বিরক্তির কারণ না হন।
ভার উত্তোলন: ওজন ওঠানো মানে ব্যায়ামাগারে গিয়ে ভারী ডাম্বেল ওঠানো নয়। বাজারের ব্যাগ বয়ে আনা, ঘর পরিষ্কারের সময় সোফা, খাট ইত্যাদি নড়ানো বা ওঠানো ইত্যাদি গৃহস্থালী খুঁটিনাটি কাজে সেচ্ছায় হাত লাগান। কিংবা টিভি দেখা বা ফোনে কথা বলার সময় এক হাতে হালকা কোনো ওজন ওঠাতেও ক্ষতি নেই।
বাইরে কাজ: ঘরের বাইরের খুঁটিনাটি কাজগুলো স্বাস্থ্যবান থাকার একটি ভালো উপায়। পোর্কে হেঁটে আসা, দোকান থেকে কিছু কিনে আনা, প্রতিবেশির সন্তানের সঙ্গে হালকা খেলাধুলা ইত্যাদি। ইচ্ছা থাকলে আরও অনেক উপায় বের হবে আপনার মাথা থেকেই।
দলে যোগ দেওয়া: আপনার মতোই সুস্থ-সুঠামদেহ চায় এমন দলে যোগ দিন। এতে অনুপ্রেরণা পাবেন, পাশাপাশি বেরিয়ে আসবে সুস্থ থাকার আরও অনেক উপায়।

সকালের ৪ ব্যায়াম বিশেষজ্ঞদের মতে!



বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে উঠে হালকা ‘স্ট্রেচিং’ বা দেহ টান টান করলে শরীরের ‘ম্যাজম্যাজ’ ভাব কাটাতে সাহায্য করে।
শরীরচর্চাবিষয়ক এক ওয়েবসাইট জানিয়েছে এমন চারটি স্ট্রেচিং পদ্ধতি।
যোগ ব্যায়ামের পদ্মাসন ভঙ্গিতে বসে দুই হাত সামনের দিকে যতটা সম্ভব বাড়িয়ে দিতে হবে। এ সময় দুই হাতের আঙুলগুলো ভাজে বসিয়ে নিতে হবে। হাতের তালু থাকবে সামনের দিকে। এরপর দুই হাত আস্তে মাথার উপর উঠাতে হবে। পরে কোমর থেকে ডানে ও বামে যতটা সম্ভব কাত হতে হবে।
এ পদ্ধতিতে শরীরের উপরাংশ, কাধ, বাহু ও কোমরের স্ট্রেচিং হয়।
পিঠের ভরে শুয়ে পা উপরে ওঠাতে হবে। পরে এক পায়ের হাঁটু ভাঁজ করে পেটের উপর এনে বিপরীত পাশের হাত দিয়ে চাপ দিতে হবে। এবার হাঁটুকে মেঝের দিকে টানতে হবে এবং কোমরের থেকে পিঠ বাঁকাতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে দুই কাঁধ যেন অবশ্যই মেঝেতে লেগে থাকে। একইভাবে দুই পায়ের মাধ্যমে ডানে-বামে ব্যায়ামটি করতে হবে।
এই ব্যায়ামের মাধ্যমে পিঠ, মেরুদণ্ড ও নিতম্বের পেশি স্ট্র্রেচিং হয়।
দুই পা ভাঁজ করে বসে পেছনে দুই হাতের তালু মাটিতে রেখে হাতের উপর শরীরের ওজন দিন। এবার ধীরে মাথা পেছনের দিকে এলিয়ে দিন এবং হাতে ভর দিয়ে কোমর থেকে পুরো শরীর উপরে ওঠাতে হবে। কিছুক্ষণ ধরে রেথে আগের অবস্থায় ফিরে যান। এভাবে কয়েকবার ব্যায়ামটি করতে হবে।
নিতম্ব, পেট ও বুকের পেশি টানটান হয় এই ব্যায়ামে।
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে জোরে শ্বাস টানার সঙ্গে দুই হাত মাথার উপরে টানটান করতে হবে। পাশাপাশি পায়ের গোড়ালি উপরে তুলে পায়ের পাতার ভরে দাঁড়াতে হবে। এতে পুরো শরীর টানটান হবে। এবার শ্বাস ছেড়ে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে হবে। এবার কোমর থেকে শরীর বাঁকিয়ে হাত দিয়ে পায়ের আঙুল ধরার চেষ্টা করতে হবে। তবে হাঁটু ভাঁজ করা যাবে না। এই ব্যায়ামের মাধ্যমে ঘাড়, পুরো পিঠ, হাটুর পেছনের অংশ, ঘাড়, হাত সবকিছুই টানটান হবে।

শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

প্রাথমিক চিকিৎসা/প্রতিবিধান এর যাবতীয় ব্যাসিক …+ এর উপর ৮০ পৃষ্ঠার পরিপূর্ণ বাংলা বই (ছবি সহ)


বাঁচতে হলে জানতে হবে …। আপনার এই সামান্য জ্ঞান একটা মানুষের বড় কোন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে …
” সবাইকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি আপনারা আপনাদের ফেসবুকে এই পোস্টটা অবশ্যই শেয়ার করবেন …”
মনে রাখবেন আপনার এই শেয়ার একটা মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে …
প্রথমে মনে করেছিলাম পিডিএফ আকারে দিব … পরে আপনাদের পড়ার অসুবিধার কথা চিন্তা করে টেক্সট হিসাবে দিলাম …।
▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬
প্রাথমিক চিকিৎসা বা প্রতিবিধান চিকিৎসাশাস্ত্রের একটি অংশ। প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে হঠাৎ কোনো পীড়া বা দৈব দুর্ঘটনায় হাতের কাছের জিনিসের দ্বারা রোগীকে প্রাথমিকভাবে সাহায্য করা, যাতে ডাক্তার আসার আগে রোগীর অবস্থার অবনতি না ঘটে বা জটিলতা সৃষ্টি না হয়। অর্থাৎ যেকোনো আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রথম শুশ্রূষা এবং সংক্ষিপ্তউপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা / প্রতিবিধান বলা হয়।
▬▬▬▬▬▬

রক্তক্ষরণ :

▬▬▬▬▬▬
রক্ত হলো এক প্রকার তরল পদার্থ। এর রং লাল। হিমোগ্লোবিন নামক লাল রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে রক্তের রং লাল দেখায়। শরীরের কোনো স্থানে আঘাতের ফলে বা কেটে গেলে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, এবং সেই ক্ষত হতে যে রক্ত বের হয়, তাকে রক্তক্ষরণ বা রক্তপাত বলে। বিভিন্নভাবে রক্তক্ষরণ হতে পারে যেমন-
১। মুখ দিয়ে রক্ত পড়া :
———————
মুখের ভিতরের যেকোনো অংশ থেকে রক্তপাত হলে বরফ চুষতে হবে। তাহলে রক্তপাত বন্ধ হবে। এরপর রোগীকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে।
২। নাক দিয়ে রক্ত পড়া :
———————–
আঘাতজনিত বা অন্য কোনো কারণে কারো নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করলে তৎক্ষণাৎ তাকে চিত করে শোয়াতে হবে অথবা বসিয়ে মাথা পেছনের দিকে হেলিয়ে রাখতে হবে। কাপড়চোপড় ঢিলা করে দিতে হবে। নাকের সামনে ও ঘাড়ের পিছনে ঠাণ্ডা কমপ্রেস দিতে হবে। তখন মুখ দিয়ে শ্বাসকার্য চালাতে হবে। রক্তপাত বন্ধ হবার পরও কিছুক্ষণ নাকের ছিদ্রপথে তুলো দিয়ে রাখতে হবে।
৩। শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে:
———————————-
কাটা স্থানটি কিছুক্ষণ পরিষ্কার হাতে চেপে ধরতে হবে। রক্ত বন্ধ হলে
ব্যাণ্ডেজ দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে। সাধারণত তিনটি উৎস থেকে রক্তপাত হয়। যথা-
ক) কৈশিক নালি (Capillary)-একটানা স্রোতের ন্যায় রক্ত বের হয়।
খ) শিরা (Vein)-গলগল করে রক্ত বের হয় ।
গ) ধমনী (Artery)- ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়।
দুর্ঘটনায় বেশির ভাগ রক্তপাত হয় কৈশিক নালি থেকে।
শরীরে কোনো বস্তু ঢুকে রক্তপাত হলে যা করবেন—
  • ক্ষতস্থানের দুই পাশ চেপে ধরুন (তবে ক্ষতস্থানের ওপর চাপ দেবেন না)।
  • ক্ষতস্থান ও বস্তুটির ওপর আলতো করে গজ বা কাপড় মুড়িয়ে দিন।
  • বস্তুটির চারদিকে ক্ষতস্থানের ওপর প্যাড ব্যবহার করে ব্যান্ডেজ বাঁধুন। ক্ষতস্থান থেকে বস্তুটি তুলে ফেলার চেষ্টা করবেন না।
  • হাত বা পায়ের ক্ষেৎরে ক্ষত অঙ্গ উঁচু করে ধরুন।
  • যদি মনে হয়, আঘাতপ্রাপ্ত অঙ্গের হাড় ভেঙে গেছে; তাহলে অঙ্গটি নড়াচড়া বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করুন।
  • হাত বা পায়ের ক্ষেৎরে ঘন ঘন আঙুল ও পায়ের পাতা উষ্ণ আছে কিনা পরীক্ষা করুন।
রক্তপাতের প্রাথমিক চিকিৎসা :
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
১। রোগীকে বসানো ও শোয়ানো যায় এমন স্থানে স্থানান্তর করতে হবে। এতে রক্তপাত আপনা-আপনি কমে যাবে।
২। যে স্থান হতে রক্তপাত হচ্ছে, সে স্থান হৃৎপিণ্ডের সমতার উপর তুলে ধরলে রক্তপাত অনেকটা কমে যাবে।
৩। সামান্য কেটে গেলে ঐ স্থানে রক্ত জমাটবেঁধে আপনা-আপনি রক্তপাত বন্ধ হয়।
৪। কাটা স্থানে বৃদ্ধাঙ্গুলির চাপ প্রয়োগ করলে অনেক সময় রক্তপাত বন্ধ হয়।
৫। আহত অঙ্গের নড়াচড়া বন্ধ করতে হবে।
৬। রক্তপাতের স্থানে বরফ ব্যবহার করতে হবে।
৭। রক্তপাত বন্ধের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ দিতে হবে।
৮। ক্ষতস্থান পরিষ্কার কাপড় বা ব্যাণ্ডেজ দিয়ে বাঁধতে হবে।
৯। তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে বাহাসপাতালে নিতে হবে।
১০। বেশি রক্তপাত হলে টুর্নিকেট ব্যবহার করতে হবে। টুর্নিকেটঅর্থ হলো প্রাথমিক বাঁধনকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শক্ত করে তোলা। ক্ষতস্থান ঢিলা করে বেঁধে তার ভিতরে একটি কাঠি বা পেন্সিল ঢুকিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে ঘুরালে বাঁধনটি ক্রমশ শক্ত হয়ে রক্তপাত বন্ধ হয়।
▬▬▬0▬▬▬

বৈদ্যুতিক শক :

▬▬▬▬▬▬
আজকাল শহর ও শহরতলি এবং গ্রামেও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বণ্ড জায়গায় অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার ফলে যেকোনো সময় তড়িতাহত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিদ্যুৎপ্রবাহ বা কারেন্ট দুই ধরনের। এসি (AC)কারেন্ট ও ডিসি (DC)কারেন্ট। এসি কারেন্ট আকর্ষণ করে টেনে নেয়। ডিসি কারেন্ট শুধু ধাক্কা মারে। সে জন্য এসি কারেন্ট বেশি মারাত্মক। ভেজা কাপড় বা গাছের সাথে বিদ্যুৎপ্রবাহের সংযোগের ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এগুলো স্পর্শ করলে নিজেও তড়িতাহত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে :
▬▬▬▬▬▬
কারো শরীরে বিদ্যুতের তার জড়িয়ে গেলে বা কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে সাথে সাথে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো কারণে সুইচ বন্ধ করতে না পারলে শুকনাকাঠ দিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে দিতে হবে। কাঠ না পেলে শুকনা কাপড় হাতে জড়িয়ে ধাক্কা দিতে হবে। কখনো খালি হাতে ধরলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বিপদ ঘটতে পারে। কখনো গায়ে পানি দেবে না। শ্বাসক্রিয়া না চললে কৃত্রিমভাবে শ্বাসকার্য চালাতে হবে। তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখাতে হবে।
▬▬▬0▬▬▬

মচকানো :

▬▬▬▬▬▬
হাড়ের সংযোগ স্থান সঞ্চালনের সময় হঠাৎ মচকে গেলে বা বেঁকে গেলে সংযোগ স্থান সংলগ্ন স্নায়ুতন্ত্রের ওপর টান পড়ে বা ছিঁড়ে গিয়ে যে অসুবিধার সৃষ্টি হয় তাকে মচকানো বলে। ব্যায়াম, খেলাধুলা বাঅন্যান্য কাজকর্মের সময় মাঝে মাঝে ব্যথা পাওয়া বা মচকানো অস্বাভাবিক নয়। এসব দুর্ঘটনার জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু অনেক সময় চিকিৎসকের সাহায্য পেতে দেরি হয়। তাই আহত ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসার দরকার হয়।
লক্ষণ :
১। আহত স্থানে ব্যথা অনুভূত হবে।
২। সন্ধিস্থল ফুলে যাবে।
৩। আহত স্থান বিবর্ণ হয়ে নীল বা লাল আকার ধারণ করবে।
৪। স্বাভাবিক ভাবে নড়াচড়া করা যাবে নাএবং চলার সময় আহত স্থানে ব্যথা বৃদ্ধিপাবে।
প্রাথমিক চিকিৎসা :
————
১। আঘাতের সাথে সাথে আহত স্থানে ঠাণ্ডা পানি বা বরফ লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
২। আহত স্থানটি নড়াচড়া করতে দেয়া যাবে না।
৩। মচকানো স্থানটি যথাসম্ভব আরামদায়ক অবস্থায় রাখতে হবে।
৪। আহত স্থানে হাড়ভাঙার ব্যাণ্ডেজ প্রয়োগ করতে হবে।
৫। ব্যাণ্ডেজ সব সময় ভিজা রাখবে। সম্ভব হলে বরফ লাগাবে।
৬। মাংসপেশি মচকে গেলে রোগীকে সহজ ও আরামদায়ক অবস্থায় শোয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
৭। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে ডাক্তার বা হাসপাতালে পাঠাবার ব্যবস্থা করতে হবে।
▬▬▬0▬▬▬

কামড়, দংশন বাহুল ফোটা :

▬▬▬▬▬▬
বিভিন্ন জন্তু-জানোয়ারের কামড় থেকে সাবধান থাকতে হবে। পাগলা কুকুরের মুখের লালায় জলাতংক রোগের জীবাণু থাকে। কুকুর, নেকড়ে, শিয়াল, বেজি ও ছুঁচো-এরা সবাই জলাতংক রোগের জীবাণু বহন করে। এরা কামড়ালে সাথে সাথে আহত স্থানে কার্বলিক সাবান বা পানি দিয়ে আহত স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং তাড়াতাড়ি হাসপাতালে পাঠাবার ব্যবস্থা করতে হবে। বিড়ালের নখ খুব তীক্ষè। বিড়াল থেকে ডিপথেরিয়া রোগ হয়। বিছা, মৌমাছি ও ভীমরুলের কামড় মারাত্মক। এরা হুল ফুটিয়ে বিষ থলি থেকে হুলের পথে বিষ ঢেলে দেয়। অনেক সময় হুলটি ভেঙে গিয়ে দংশন স্থানে লেগে থাকে। যদি হুল ফুটে থাকে তবে ক্ষতের চারদিকে চাপ দিয়ে হুলটি বের করে নিতে হবে।
সাপে কামড়ালে:
————-
* কামড়ের জায়গার উপরেকাপড় বা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধতে হবে। এর ফলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হবে এবং বিষ ছড়াতে পারবে না।
* ধারালো বে−ড দিয়ে আহত জায়গা একটু গভীর করে কেটে (আধা সে: মি:) রক্ত বের করে ফেলতে হবে।
* ৩০ মিনিটের বেশি সময় বেঁধে রাখা যাবে না।
বেশি সময় বেঁধে রাখলে রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিচের অংশে পচন ধরতে পারে।
* যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের নিকট বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
ভুল করে কোন ওঝা এর নিকট নিবেন না …
পানিতে ডোবা
• পানিতে ডুবে যাওয়া লোকের মুখ ও নাক পরিষ্কার করুন
• পেট থেকে পানি বের করার জন্য মাটিতে উপুর করে শোয়ান
• তার হাত দুটি তার কপালের নিচে রাখুন
• একটি বালিশ বা কিছু কাপড় তার পেটের নিচে রাখুন এবং পিঠে মৃদু চাপ দিন

▬▬▬০▬▬▬

চোখে কিছু পড়লে :

▬▬▬▬▬▬
চোখ মানুষের অমূল্য সম্পদ। নানা কারণে চোখ দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। চোখে ধুলোবালি পড়তে পারে। কাজ করার সময় কিছু ছিটকে এসে চোখে বিঁধতে পারে, কোনো রাসায়নিক পদার্থ চোখে পড়তে পারে। এরূপ কিছু চোখে পড়ে গেলে -
১। কখনই চোখ কচলানো যাবে না।
২। চোখে পানির ঝাপটা দিতে হবে।
৩। রোগীকে আলোর দিকে মুখ করে বসিয়ে আলতোভাবে চোখের দুটি পাতা খুলে দেখতে হবে। চোখে কোনো বস্তু লেগে থাকলে রুমালের কোনা ভিজিয়ে আলতোভাবে ব্রাশ করার মতো লাগিয়ে বস্তুটি তুলে নিতে হবে।
৪। রাসায়নিক কিছু চোখে পড়লে দুধ দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
৫। তাড়াতাড়ি ডাক্তার বা হাসপাতালে পাঠাবার ব্যবস্থা করতে হবে।
কানে কিছু গেলে :
▬▬▬▬▬▬
কানে পোকামাকড় ঢুকে গেলে সরিষার তেল বা অলিভ ওয়েল অল্প পরিমাণ ঢেলে দিলে পোকা মরে যায় এবং বের হয়ে আসে। তাছাড়া মার্বেল জাতীয় কোনো কিছু ঢুকে গেলে নড়াচড়া না করে দ্রুত ডাক্তারের নিকট বা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
▬▬▬০▬▬▬

অজ্ঞান অবস্থায় করণীয় :

▬▬▬▬▬▬
দেহের স্নায়ুতন্ত্রের কাজের বিঘ্ন ঘটলে রোগীর জ্ঞান লুপ্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকে অজ্ঞান বা অচেতন অবস্থা বলে। বিভিন্ন কারণে মানুষ অজ্ঞান হয় যেমন- রোগবশত, দুর্ঘটনাজনিত, বিষক্রিয়াজনিত এবং তাপের তারতম্যজনিত কারণে।
১। রোগীকে ফাঁকা ও বায়ুপূর্ণ স্থানে নিয়ে যেতে হবে।
২। রোগীর জামা-কাপড়, জুতা, মোজা, কৃত্রিম দাঁত থাকলে খুলে নিতে হবে।
৩। রোগীকে চিৎ করে শুইয়ে পর্যবেক্ষণ করে কী করণীয় তা স্থির করতে হবে।
৪। লোক বেশি হলে সরাতে হবে।
৫। রক্তক্ষরণ হলে তার প্রতিবিধান করতে হবে।
৬। কোনো উত্তেজক পানীয় বা খাদ্য খাওয়ানো যাবে না।
৭। বিষজনিত কারণে অজ্ঞান হলে রোগীকে উপুড়করে বুকের নিচে বালিশ দিয়ে শুইয়ে দিতে হবে। রোগীর দুটি পা হাঁটু হতে উপরের দিকে ভাঁজ করে দিতে হবে।
৮। জ্ঞান ফেরার জন্য মুখে পানির ঝাপটা দিতে হবে। গরম চা বা কফি খাওয়াতে হবে।
৯। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।
প্রাথমিক চিকিৎসাঃ সামগ্রী ও উপকরণ 
মনে রাখতে হবে যিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দেন তিনি সাধারণতঃ ডাক্তার নন। তাঁর কাজ হচ্ছে অসুস্থ্য ব্যক্তিকে উপযুক্ত চিকিৎসকের কাছে পাঠিয়ে দিতে হবে। তবুও হাতের কাছে কিছু সামগ্রী থাকা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে প্রাথমিক উপকরণগুলো অনেক কাজে আসে। এখানে কিছু উপকরনের তালিকা দেয়া হলো।
  • থার্মোমিটারডিসপেনসারী ফোরসেপ
  • তুলা
  • এন্টিসেপটিক/ এন্টিবায়োটিক পাউডার
  • তরল এন্টিসেপটিক (স্যাভলন)
  • প্যারাসিটামল ট্যাবলেট
  • লিকো প্লাষ্ট
  • সার্জিকেল নিডল(সুঁচ)
  • ক্ষত সেলাইয়ের সুতা
  • সেফটি পিন
  • ১০-১৫ এ্যাডহেসিভ ড্রেসিং
  • আর্টারী ফোরসেপ
  • রোল ব্যান্ডেজ
  • সার্জিকেল গজ
  • বারনল ক্রীম
  • এন্টিসেপটিক ক্রীম (স্যাভলন ক্রীম)
  • ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ
  • বাটার ফ্লাই নিডল
  • কাঁচি
  • ব্লেড
  • জীবানুমুক্ত চোখের প্যাড


প্রাথমিক চিকিৎসার উপর পরিপূর্ণ বাংলা বইঃ

▬▬▬ ▬▬▬▬۩۞۩▬▬▬▬▬▬▬
Durghotonay Prathomik Chikitsha – V V Yudenich
এটি একটি অনুবাদ বই
সাইজঃ ৮ এমবি
মোট পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৮২
ডাউনলোড লিংকঃ
http://www71.zippyshare.com/v/70670810/file.html
অথবা
http://www.solidfiles.com/d/ebc957063b/Durghotonay_Prathomik_Chikitsha_-_V_V_Yudenich.zip
▬▬▬▬۩۞۩▬▬▬▬
সীমিত ইন্টারনেট প্যাকেজের ও নেটের স্লো স্পিড়ের জন্য যারা এই ই-বুক গুলো অথাবা আমার অন্যান্য ই-বুক ডাউনলোড করতে পারছেন না …!
অথবা যারা ব্যস্তাতার জন্য ডাউনলোড করার সময় পাচ্ছেন না……
অথবা এতগুলো বই একটা একটা করে ডাউনলোড করতে যাদের বিরক্তিকর মনে হয় …
তারা নিচের লিংকে দেখুন …আশা করি আপনারা আপনাদের সমাধান পেয়ে যাবেন……
https://www.facebook.com/notes/জিরো-গ্রাভিটি/complete-solution-of-your-computer-all-genuine-windows-xclusive-software-bangla-/10152049959232103
অথাবা এক মেগাবাইটের এই বইটি ডাউনলোড করে দেখুন …
http://sourceforge.net/projects/tanbir/files/Complete%20Computer%20Solutions%20%28Just%20read%20it%20once%29.pdf/download

সোমবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৩

মস্তিষ্ক উন্নয়নে কিছু মজার টিপস…

আমার মতে সবার উপকারে আসবে এই টিউনটি পড়লে …

আমাদের প্রত্যেকেই চায়  যে আমাদের ব্রেইন যেন সব সময় সুস্থ থাকে সেই জন্য আমাদের সব চেয়ে যেটি প্রয়োজনীয় দেখার জিনিস সেটি হল আমাদের খাবার প্রণালী কারণ এটার উপর নির্ভর করে আমাদের ব্রেইনের সুস্থতা এবং উন্নতি ….নিন্মে দেয়া হল …
মস্তিষ্ক বিজ্ঞানীদের মতে, কোলিনসমৃদ্ধ খাদ্য খেলে মেধাশক্তি বাড়ে। প্রতিদিন মস্তিষ্কের জন্য ৪০০-৯০০ মিলিগ্রাম কোলিন প্রয়োজন। একটি হাঁস বা মুরগির ডিমে ৪০০ মিলিগ্রাম, ছোট দু’টুকরা মাছ থেকে ১০০ মি. গ্রা. ৪-৫টি যকৃতের টুকরায় ৬০০ মি. গ্রা. কোলিন থাকে। এছাড়াও ফুলকপি, বাঁধাকপি, সয়াবিন, দুধ, বাদাম ইত্যাদি খাদ্যে প্রচুর কোলিন থাকে। বিশেষ করে সয়াবিন নিয়মিত খেলে শেখার, বুঝার ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। বৃদ্ধ বয়সে ভিটামিন ‘বি’-এর অভাব হলে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। ভিটামিন ‘বি’ রয়েছে ডাল, শস্যদানা, বাদাম, সবুজ শাক-সবজি, চাল, গম, কলা, গাজর, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি খাদ্যে। ভিটামিন ‘সি’-এর অভাবে মস্তিষ্কের বাস্তবের সাথে বুঝার ক্ষমতা অনেকাংশে লোপ পায়। ভিটামিন সি বেশি থাকে আমলকি, পেয়ারা, আমড়া, আম, লেবু, বাতাবি লেবু, জলপাই ইত্যাদিতে। মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতে আয়রনের প্রয়োজন। মস্তিষ্কের মধ্যে সবসময় শরীরে রক্তের প্রায় ২০ ভাগ রক্ত চলাচল করে। রক্ত শোধনের জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন। রক্তের লাল রঙের উপাদান হিমোগ্লোবিন হলো অক্সিজেনের বাহক। আয়রন হচ্ছে হিমোগ্লোবিনের প্রধান সৃষ্টিকারী।
মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব হলে মনোযোগ ও নতুন কিছু বুঝা বা শেখার আগ্রহ কমে যায় এবং মনের চঞ্চল ভাবটাও নষ্ট হয়। কথাবার্তায় আদব-কায়দা হ্রাস পায়। আয়রন বেশি থাকে কচুশাক, লালশাক, পালংশাক, কলা, নটেশাক, মূলাশাক, বরই, তরমুজ, বরবটি, গুড় ইত্যাদি খাদ্যে। এসব আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সাথে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেলে সহজেই হজম হয়। বোরন ও জিংক স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আপেল, আঙ্গুর, ডাব, টমেটো, গম, দুধ এসব খাদ্যে বোরন ও জিংক থাকে। ১০ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ালে স্মরণশক্তি বাড়ে। গর্ভবতী মহিলারা কোলিনসমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর খাদ্য খেলে গর্ভের শিশু মস্তিষ্ক গঠনের সময় স্মরণশক্তি ও বুদ্ধি বৃদ্ধির উপাদান সৃষ্টি হয়। বয়স্কদের জন্য মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তেল, চর্বি, ঘি জাতীয় খাদ্য স্মরণশক্তি হ্রাস করে। চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদান রক্তের সাথে মিশে গিয়ে মস্তিষ্কের অত্যন্ত সূক্ষ্মবাহী নালীগুলোর মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচল ব্যাহত করে। খাবারে মিশ্রিত কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। অ্যালকোহল জাতীয় পদার্থ মানুষের স্মরণশক্তিকে মুছে ফেলে। মস্তিষ্কের প্রোটিন তৈরির সময় অ্যালকোহল বাধা দেয়। ফলে নতুন স্নায়ুকোষ জন্মাবার সম্ভাবনা চিরদিনের জন্যই বন্ধ হয়ে যায়। ঘুমের ওষুধ স্মরণশক্তি হ্রাস করে।
***মস্তিস্ক সুস্থ রাখতে যা করনীয় তা হচ্ছেঃ
০ প্রতিদিন স্বাস্থ্য সম্মত সুষম খাবার খেতে হবে।
০ প্রতিদিন অন্ততঃ ৮ গ্লাস পানি পানসহ টি, কফি খেতে হবে অথবা রং চা তথা দূধ ছাড়া ।
০ মানসিক চাপ কমাতে হবে এবং মাঝে মধ্যে মস্তিস্ককে অবসর দিতে হবে।
০ প্রতিদিন কোন ভালো ভিটামিন ও ব্রেইন সাপ্লিমেন্ট সেবন করা যেতে পারে।
০ প্রতিদিন মেসওয়াক করতে হবে জয়তুন গাছের ঢাল দিয়ে অথবা নিম গাছের ঢাল দিয়ে।
০সকালে নামাজের পর খোলা আকাশের নিচে কিছুক্ষণ হাটাহাটি করা কারণ মনিষীরা বলে যে সকালের হাওয়াটা মানুষের জ্ঞানী হওয়ার এক অমূল্য সম্পদ।
০ আমাদের মুখ ও নাক  সব সময় পানি দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার রাখতে হবে আমরা আরেকটি কথা হয়ত অনেকে জানি যে আমাদের শরীরের বাতাস আদান প্রদানে ফিল্টার মেশিন হল আমাদের নাকের লোম গুলো কেননা আমরা সারাদিন যে নিস্বাশ টানি তাতে বাহ্যিক  হাওয়া আমাদের শরীরে আদান প্রদান নাকের মাধ্যমে হয় এক্ষেত্রে নাকের লোম গুলো এবং নাকের ভিতরে একটি পর্দা থাকে যেটি   বাতাস ফিল্টার করে সুস্ক বাতাস আমাদের শরীরের ভেতর প্রবেশ করাতে সাহায্য করে….
***মস্তিষ্ক উন্নয়নে যা যা খেতে হবেঃ
০খাঁটি মধু প্রতিদিন সকালে এক চামচ করে খেতে হবে।
০ মিস্টি জিনিস তথা খেজুর, সাদা মিস্টি মাঝে মাঝে খেতে পারেন কারণ মেডিকেল সাইন্স বলে মিস্টি জিনিস ব্রেইন উন্নয়নে সাহায্য করে ।
০ রান্নাকৃত  মসরের ডাল যাতে পানি বেশি থাকতে হবে অর্থাৎ ডালের পানি বেশি করে খেতে হবে।
০ পোড়া বাজা কম খেতে হবে এবং লাল মরিচ যুক্ত তরকারি কম খেতে হবে, এবং সবুজ শাক শবজি বেশি করে খেতে হবে।

খাদ্য এবং পুষ্টি উপাদান (ক্যালরি, প্রোটিন, কার্ব, ফ্যাট)



যেসব খাবার বেশি ভূমিকা রাখে, এবং কোন খাবারে কি পরিমান ক্যালরি, প্রোটিন, কার্ব, ফ্যাট আছে, তার একটা তালিকা দেয়া হলো। তালিকাটি অসম্পূর্ণ।
  • ১ গ্রাম প্রোটিন =  ৪ ক্যালরি
    ১ গ্রাম কার্ব = ৪ ক্যালরি
    ১ গ্রাম ফ্যাট = ৯ ক্যালরি
  • খাদ্য (৩০গ্রাম)পরিমানক্যালরিপ্রোটিন (গ্রাম)কার্ব (গ্রাম)ফ্যাট (গ্রাম)
    চিকেন ব্রেস্ট (চামড়া ছাড়া)
    ৩৫৮০১
    গরুর মাংশ
    ৭৫৭০৫
    চিংড়ি (মাঝারি)২টি৩০৬০০
    টার্কি ব্রেস্ট
    ২৮৭০১
    টুনা ফিশ
    ৩৫৭০০
    শ্যামন ফিশ
    ৪০৬০২






    ডিমের সাদা অংশ১টি১৬৩০০
    ডিম১টি৭৫৬১৫
    দুধ (১কাপ)২৪০মিলি১৫০৮১২৮
    টক দই (১কাপ)২৪০মিলি১৬০১০১৪৮












    তিলের তেল (১ টে.চা)১৫মি.লি১২৮০০১৪
    অলিভ ওয়েল
    ১৩২০০১৪
    সূর্যমুখীর তেল
    ১২০০০১৪
    বাদাম৩০গ্রাম১৭২৪৮১৫
    পিনাট বাটার১৫মি.লি১০০৫২৮






    মিষ্টি আলু (মাঝারি)১টি১১৫


    গোল আলু২০০গ্রাম২২০৫৫১০
    লাল চালের ভাত১/২ কাপ১০৯২২৩১
    সাদা চালের ভাত১/২ কাপ১৩৪২৩০০
    সাদা আটার রুটি১টি৭২২১২১
    লাল আটার রুটি১টি৬০২১১০
    ডাল১ কাপ২৩০১৮৪০১
    ওটমীল১ কাপ৭৩৩১৩১
    পাস্তা৩০গ্রাম১০৫৪২০১






    ব্রকলি১কাপ২৪৩৫.৫
    ফুলকপি১কাপ২৪২৫০
    বেগুন১কাপ২৭১৬০
    শিম১কাপ৪৪২১০০
    ঢেঁড়শ১কাপ৫০৩১১০
    পেঁয়াজ১কাপ২৫১৬০
    টমেটো (মাঝারি)১টি২৫১৫০






    সবুজ আপেল১টি৮১০২১০
    কলা১টি১০৫১২৭০
    আম
    ৭০১১৭০
























  • বিঃদ্রঃ যারা পেশি বাড়াতে চান কিন্তু ফ্যাট বাড়াতে চান না, তারা সাদা ভাত, ময়দা, গোল আলু, যে কোন সুগার জাতীয় খাবার, লবনাক্ত খাবার, তৈলাক্ত খাবার, মসলা জাতীয় খাবার- এসব এড়িয়ে চলবেন।
  • ভুল হলে ক্ষমা করবেন